![]()
মাঝরাতে রণক্ষেত্র ওসমানী মেডিকেল! বহিরাগতদের বর্বরোচিত হামলায় রক্তাক্ত চিকিৎসকরা, ধর্মঘটে অচল হাসপাতাল
সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হঠাৎ করেই যেন পরিণত হলো যুদ্ধক্ষেত্রে! মঙ্গলবার দিবাগত রাত তখন প্রায় সাড়ে ১২টা। জরুরি বিভাগে এক অসুস্থ শিশুকে নিয়ে আসেন স্বজনরা। এরপর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে মুহূর্তের মধ্যেই কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বহিরাগতদের অতর্কিত এই হামলায় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এই নজিরবিহীন বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, সেই সাথে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।
- 🏥 হাসপাতালে হামলা: রাত সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের ভেতরে ও বাইরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে।
- 🩸 আহত ১৫, অনেকেই আশঙ্কাজনক: হামলায় ৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং ৫ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীসহ মোট ১৫ জন আহত। ডা. তাসপিয়ানুল হক, রেজা নিলয় এবং আবরার হোসেন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
- 🛑 অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরামের চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘোষণা; সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন।
অবহেলার অভিযোগ থেকে শুরু, এরপর বহিরাগতদের তাণ্ডব
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনার সূত্রপাত হয় রোগীর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলাকে কেন্দ্র করে। রোগীর স্বজনদের সাথে কর্তব্যরত চিকিৎসকের বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে চরম আকার ধারণ করে। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোগীর সাথে থাকা লোকজন পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে আরও বহিরাগতদের ডেকে এনে হাসপাতালে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং চিকিৎসকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্য ইন্টার্ন ও শিক্ষার্থীরা ছুটে এলে সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, লাঠিসোঁটা হাতে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
থানায় পুলিশ, থমথমে হাসপাতাল! অনড় চিকিৎসকরা
হামলার খবর পেয়ে রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। থানার ওসি খান মাইনুল জাকির জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এদিকে, বুধবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান হাসপাতালে গিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত সাধারণ রোগী।
