![]()
রাজশাহীর দুই উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও গুদাম থেকে এক হাজার বস্তা অবৈধ সার জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জব্দ করা সারের একটি অংশ ইতিমধ্যে সরকারি মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পবা সংলগ্ন পুঠিয়া উপজেলার কার্তিকপাড়া বাজার এবং দুর্গাপুর উপজেলার আড়ইল গ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব সার উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম সাইদুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি দুর্গাপুরের আড়ইল গ্রামে হলেও মূল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুঠিয়ার কার্তিকপাড়া বাজারে। প্রশাসনের অভিযানের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাইদুল ইসলামের বসতবাড়ি থেকে ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া, ১০০ বস্তা টিএসপি ও ৩২৪ বস্তা ডিএপি সারসহ মোট ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা জানান, সাইদুল ইসলাম মূলত একজন কীটনাশক ব্যবসায়ী এবং তাঁর সার বিক্রির কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না।
জব্দকৃত সারগুলো রাতেই দুর্গাপুর থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কিসমতগণকৈড় এলাকার কৃষকদের মাঝে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে ইউএনও বলেন, “অভিযানের সময় সাইদুল পলাতক থাকায় তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন, তিনি কর্মস্থলে যোগ দিলে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।”
পুঠিয়ায় অভিযান ও সার বিক্রির পরিকল্পনা
এদিকে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুঠিয়ার ইউএনও লিয়াকত সালমান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকারের নেতৃত্বে কার্তিকপাড়া বাজারে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
ঐ অভিযানে সাইদুলের দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ২৭৬ বস্তা ডিএপি, ৪৮ বস্তা টিএসপি ও ৬ বস্তা ইউরিয়াসহ মোট ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। সারগুলো বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে।
পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস জানান, তাঁদের হেফাজতে থাকা জব্দ করা সারগুলো আগামী রোববার কৃষকদের মধ্যে সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হবে। অবৈধ সার মজুতের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
