Touch Bangladesh
ঢাকাসোমবার , ২৯ জুন ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

বগুড়ায় আমের দামে আগুন: সরবরাহ প্রচুর, তবু ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
জুন ২৯, ২০২৬ ৪:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বগুড়ার ফলের বাজারগুলোতে এখন ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, ক্ষীরশাপাতি থেকে শুরু করে হাঁড়িভাঙা আমের ব্যাপক সমারোহ। তবে বাজারে আমের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আকাশছোঁয়া দামের কারণে অনেক ক্রেতাই দরদাম করে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

ক্রেতাদের হতাশা ও আক্ষেপ

রোববার সকালে বগুড়া শহরের কাঁঠালতলা রেলগেট এলাকায় আম কিনতে আসেন গাবতলীর কৃষক এস এম সেকেন্দার আলী। তিনি জানান, গত বছর এই সময়ে ভালো মানের আম ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত। অথচ এবার ল্যাংড়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম শুনে শেষ পর্যন্ত আম না কিনেই তাকে ফিরে যেতে হয়।

কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেনের কণ্ঠেও ছিল একই আক্ষেপ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন:

“মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ৫ কেজি ক্ষীরশাপাতি কিনেছিলাম ৩০০ টাকায়। এখন সেই একই আম কিনতে লাগছে ৮০০ টাকা! ১৫ দিনের ব্যবধানে গরিবের নাগালের ফল কীভাবে ধনীদের ফল হয়ে গেল, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি

সরেজমিনে বগুড়ার স্টেশন সড়ক, সাতমাথা, ফতেহ আলী সেতু সড়ক ও কাঁঠালতলা এলাকার ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই আমের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রংপুর থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে প্রচুর আম আসছে বগুড়ায়। সকাল থেকেই আড়তগুলোতে নিলাম ও বেচাকেনা জমে উঠলেও, খুচরা বাজারের চড়া দাম ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে।

পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের চিত্র

বর্তমান বাজারে বিভিন্ন জাতের আমের দামের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

আমের জাত পাইকারি দাম (প্রতি মণ) খুচরা দাম (প্রতি কেজি)
ক্ষীরশাপাতি ৫,৫০০ – ৬,০০০ টাকা ১৭০ – ১৮০ টাকা
ল্যাংড়া ৪,০০০ – ৫,০০০ টাকা ১৫০ টাকা
আম্রপালি ২,৪০০ – ৩,২০০ টাকা ১০০ – ১২০ টাকা
হাঁড়িভাঙা ২,৪০০ – ২,৮০০ টাকা ৮০ – ১০০ টাকা

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবার বাগান পর্যায়েই আমের দাম অনেক বেশি।

  • সরবরাহ ঘাটতি: আড়তদার তুষার হোসেন জানান, বর্তমানে উৎপাদনের প্রধান দুই এলাকা—রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্ষীরশাপাতি এবং ল্যাংড়া আমের দাম আকাশছোঁয়া। তবে নওগাঁ থেকে আসা আম্রপালি এবং রংপুর থেকে আসা হাঁড়িভাঙার সরবরাহ ভালো থাকায় খুচরা বিক্রেতারা এগুলোই বেশি কিনছেন।

  • অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেকেন্দার আলী জানান, মৌসুমের শুরুতে যে ক্ষীরশাপাতির মণ ছিল ১,৬০০ থেকে ২,০০০ টাকা, তা এখন এক লাফে ৬,০০০ টাকায় ঠেকেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাইকারি বাজারেই আমের দাম অস্বাভাবিক বেশি।

কাঁঠালতলার খুচরা ফল বিক্রেতা আফসার উদ্দিন জানান, আড়ত থেকে তাদেরই বেশি দামে আম কিনতে হচ্ছে। গত বছর যে আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙা ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন, এবার পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, আমের ভর মৌসুম চললেও সাধারণ মানুষের জন্য তা এবার বেশ বিলাসী এক ফলেই পরিণত হয়েছে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।