![]()
প্রথমবারের মতো আধা ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল বাংলাদেশের জিডিপি, মাথাপিছু আয় ৩,০২০ ডলার | বিজনেস ডেস্ক, টাচবাংলাদেশ
দীর্ঘ অর্থনৈতিক শ্লথগতির পর কৃষি ও সেবা খাতের হাত ধরে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) প্রথমবারের মতো আধা ট্রিলিয়ন বা ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
অর্থনীতির মূল চিত্র ও পরিসংখ্যান:
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বিদায়ী অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলারে, যা এর আগের বছর ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ৩,০২০ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২,৭৬৯ ডলার।
প্রবৃদ্ধির হার: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার (Growth Rate) ৩.৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি ও সেবা খাত: কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ২.৪২% থেকে বেড়ে ২.৭৮% এবং সেবা খাতে ৪.৩৫% থেকে বেড়ে ৪.৫৯% হয়েছে।
শিল্প খাতের শ্লথগতি: উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রপ্তানি কমার কারণে শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে প্রবৃদ্ধি ৩.৭১% থেকে কমে ২.৮৬%-এ নেমে এসেছে।
আগামীর লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা:
আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সেটিকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. দ্বীন ইসলাম জানান, শিল্প খাতের দুর্বল পারফরম্যান্স সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে ৫ থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বাস্তবসম্মত।
অন্যদিকে, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (PRI) প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ (NPL) ৩২ শতাংশের ওপরে এবং কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে শুধু উচ্চ প্রবৃদ্ধির পেছনে ছুটে সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি গ্রহণ করলে তা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাময়িকভাবে সংখ্যাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পেছনে না ছুটে সরকারের উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা (Macroeconomic Stability) বজায় রাখা। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমেই কেবল দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।
