![]()
নিউজ প্রোভাইডার
বান্দরবানে টানা কয়েকদিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে প্রধান দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। নদী অববাহিকায় বন্যা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের চরম আশঙ্কায় জেলার ৭টি উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে জেলা প্রশাসন। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সানিউল ফেরদৌস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে জেলার ৩টি উপজেলার সাথে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ মিমি বৃষ্টিপাত, সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বৃদ্ধি
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের উপপরিচালক সনাতন কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, জেলায় একটানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টাও এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার প্রধান দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি ১০ দশমিক ৩৮ মিটার এবং সাঙ্গু নদীর পানি ১২ দশমিক ৬১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বর্তমানে বিপৎসীমার কিছুটা নিচে থাকলেও রাতভর বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দুই নদীর পানিই বিপৎসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শহরের নিচু এলাকা প্লাবিত ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনবরত বৃষ্টির কারণে বান্দরবান শহরের নৌঘাট, পুরাতন ও নতুন সেতু এলাকা, বাসস্টেশন, মারমা বাজার, উজানীপাড়া সিঁড়িঘাট, কালাঘাটা ও বালাঘাটা এলাকায় নদীর পানি ইতিমধ্যে ঘরবাড়ির আঙিনা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এছাড়া জেলা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রাবাসের সামনের সড়ক ও ব্রিগেড সদর দপ্তরের সামনে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়ন এবং লামা ও আলীকদম উপজেলার কয়েকটি এলাকায় প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর ফলে জেলা সদরের সাথে এই তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত ও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, সতর্কবার্তা জারি
পাহাড়ের পাদদেশে এবং নদীতীরের নিচু এলাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলার ৭টি উপজেলায় ২২০টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্গম ও নদীতীরের নিচু এলাকায় অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই।
