![]()
নিউজ প্রোভাইডার
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন পর্যটকদের টানে, তেমনই আকর্ষণ করে সেখানকার বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস সমতলের মানুষের চেয়ে বেশ আলাদা এবং অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। পাহাড়ি খাবারে তেলের ব্যবহার নামমাত্র বা একেবারেই থাকে না। প্রচুর পরিমাণে জুমের টাটকা শাকসবজি, ভেষজ গুণসম্পন্ন স্থানীয় মশলা আর রান্নার ভিন্নধর্মী কৌশলের কারণে এই খাবারগুলো একাধারে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।
পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী এবং পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ৫টি খাবারের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মুন্ডী (পাহাড়ি নুডলস)
পাহাড়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর একটি হলো ‘মুন্ডী’। এটি মূলত চালের গুঁড়ো দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি এক ধরনের দেশীয় নুডলস। মুন্ডীর আসল বৈশিষ্ট্য হলো এর স্যুপ বা ঝোল। এটি পরিবেশন করা হয় বাঁশকোড়ল ও পাহাড়ি শুঁটকির গরম ঝোল, কাঁচামরিচ কুচি এবং ধনেপাতা দিয়ে। টক-ঝাল স্বাদের এই খাবারটি পাহাড়ি তরুণ-তরুণী ও পর্যটকদের বিকেলের নাস্তার প্রথম পছন্দ।
২. সিদল ভর্তা
শুঁটকিপ্রেমীদের জন্য সিদল ভর্তা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পাহাড়ি অঞ্চলের বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি শুঁটকি এবং বাঁশের কচি পাতা একসাথে মিশিয়ে এই বিশেষ ভর্তাটি তৈরি করা হয়। জুমের ঝাল কাঁচামরিচ ও স্থানীয় মশলার মিশ্রণে তৈরি এই ভর্তাটি বিন্নি চালের গরম ভাতের সাথে দারুণ জমে ওঠে।
৩. বাঁশকোড়ল রান্না
পাহাড়ি রান্নার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ‘বাঁশকোড়ল’ (বাঁশের কচি ডাঁটা বা অঙ্কুর)। বর্ষাকালে পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে বাঁশকোড়ল পাওয়া যায়। কচি বাঁশের এই অংশটি দিয়ে মুরগি বা হাঁসের মাংস কিংবা মাছ রান্না করা হয়। তেল ছাড়া বা সামান্য তেলে জুমের মশলা দিয়ে রান্না করা এই পদের স্বাদ ও সুগন্ধ মুখে লেগে থাকার মতো।
৪. বিন্নি চালের ভাত
পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ভাতের জাত হলো ‘বিন্নি চাল’। জুম চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত এই চালটি অত্যন্ত আঠালো এবং প্রাকৃতিকভাবেই সুগন্ধযুক্ত হয়। পাহাড়িরা সাধারণত এই ভাত ধোঁয়া ওঠা গরম অবস্থায় কলাপাতায় মুড়িয়ে পরিবেশন করেন। বিন্নি চালের ভাত পাহাড়ি মুরগির চাটনি বা সিদল ভর্তার সাথে খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসব-পার্বণেও পিঠা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৫. পাহাড়ি মুরগির চাটনি
পাহাড়ের আরেকটি জিভে জল আনা পদ হলো পাহাড়ি মুরগির চাটনি বা মাংসের ভর্তা। জুমের খাড়া পাহাড়ে চরে বেড়ানো দেশি মুরগি পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে তা হাত দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করা হয়। এরপর পোড়া কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ ও পাহাড়ের বিশেষ ঝাঁঝালো মশলা দিয়ে এটি মাখানো হয়। কম তেলে তৈরি এই চাটনিটি স্বাদে অত্যন্ত ঝাল ও মুখরোচক হয়ে থাকে।
সমতলের অতিরিক্ত মসলা ও তেলের ভারী খাবার থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি ঘরোয়া স্বাদের অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে পাহাড়ের এই খাবারগুলোর কোনো বিকল্প নেই।
