![]()
আবহাওয়া
উত্তরে হালকা কুয়াশা, ২১ সেপ্টেম্বরের পরেই শুরু শীতের আবহ
বর্ষার শেষভাগ পেরিয়ে শরতের দিকে এগোচ্ছে দেশ। আকাশে মেঘের আনাগোনা কমছে, বৃষ্টিও আগের তুলনায় কমে এসেছে। এরই মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও ভোর কিংবা সন্ধ্যার দিকে হালকা কুয়াশার দেখা মিলছে। কোথাও আবার সকাল গড়িয়ে যাওয়ার আগেই মিলিয়ে যাচ্ছে সেই কুয়াশা। তাহলে কি শীত এসে গেল?
আবহাওয়াবিদরা জানান, উত্তরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা দেওয়া শীতের আগমনের একটি পূর্বাভাস হতে পারে। তবে এটিকে এখনই শীতের শুরু বলা যাবে না। কারণ বাংলাদেশে শীতের মৌসুম হিসেবে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই তিন মাসকে ধরা হয়। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে শীতের একটি আবহ তৈরি হতে শুরু করে।
“দক্ষিণ দিকে সূর্যের আলো বেশি পড়ার ফলে সেখানে বাষ্পায়নের প্রক্রিয়াও বেশি হয়। একই সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের ধরন পরিবর্তিত হতে থাকে। শীতের দিকে এগোতে থাকলে উত্তর দিক থেকে তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাস প্রবেশের প্রবণতা বাড়ে।” — আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, বর্ষাকাল বিদায় নেওয়ার আগেই শীতের একটি ভাব শুরু হয়। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ঢাকা বা দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় কিছুটা কম থাকায় সেখানে সামান্য কুয়াশা দেখা দিতে পারে। এই কুয়াশা শীতকালের কুয়াশার মতো দীর্ঘস্থায়ী বা প্রভাবশালী নয়।
তিনি জানান, বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলেও শীতকালে উত্তরাঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো থাকে।
শীতের আগমনকে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা। এর আগে ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন শুরু হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাতাসের দিক পরিবর্তন এবং দিনের দৈর্ঘ্য কমে আসা।
আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, শীতের আগমনের একটি পূর্বশর্ত হলো উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ শুরু হওয়া। এখনই উত্তর দিক থেকে কিছুটা বাতাস আসতে শুরু করলেও দেশের ওপর বর্ষাকালের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে দক্ষিণ দিক থেকে আসা আর্দ্র বাতাসও এখনো রয়েছে।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের ২১ বা ২২ তারিখের দিকে দিন ও রাত প্রায় সমান হয়। এরপর ধীরে ধীরে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে এবং সূর্যের অবস্থানও দক্ষিণের দিকে সরে যায়। বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের বিষুবের পর ধীরে ধীরে এখানে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে।
তার মতে, এই সময়ের কুয়াশা তুলনামূলকভাবে অল্প সময় স্থায়ী হতে পারে। রাতের শেষভাগে বা ভোরে কুয়াশা দেখা গেলেও সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিপরীতে শীতকালে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ায় কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে তিনি জানান, আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফেনীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রার এই ওঠানামা, উত্তরের দিকে ভোরের হালকা কুয়াশা আর ক্রমশ ছোট হয়ে আসা দিনই জানান দিচ্ছে — ঋতুর পালাবদল শুরু হয়ে গেছে। শীতের চাদর গায়ে জড়ানোর সময় না এলেও আগমনী বার্তা দিয়ে যাচ্ছে উত্তরের হালকা হাওয়া।
