![]()
মিরপুরে একজন গর্ভধারিণী মায়ের নির্মম ও অবমাননাকর অপমৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, গভীর নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড। একই সাথে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সন্তানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে না দেখে, একে অবক্ষয়গ্রস্ত সমাজব্যবস্থার একটি চরম উদ্বেগজনক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বর্তমান সময়ের তীব্র প্রতিযোগিতা ও জড়বাদী মানসিকতার সমালোচনা করে কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড এক বিবৃতিতে জানায়:
”আজকের সমাজ সন্তানকে কেবল জিপিএ-৫, উচ্চ ডিগ্রি আর বড় বেতনের চাকুরে বানানোর অন্ধ দৌড়ে শামিল করেছে। কিন্তু মিরপুরের এই ঘটনা আমাদের চপেটাঘাত করে মনে করিয়ে দেয়— ভালো কর্মজীবী হওয়ার চেয়ে আগে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আগে সুশিক্ষিত হওয়া দরকার।”
সংস্থাটি মনে করে, নৈতিকতা ও মানবিকতাহীন শিক্ষা কেবল অন্ধকারের জন্ম দেয়। সন্তানকে সমাজে তথাকথিত ‘প্রতিষ্ঠিত’ করার চেয়ে তাকে একজন সংবেদনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। যে শিক্ষা নিজের জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ শেখায় না, সেই শিক্ষার কোনো মূল্য নেই।
কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড-এর পক্ষ থেকে প্রধান দাবি ও আহ্বানসমূহ:
সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার: মিরপুরের এই অপমৃত্যুর ঘটনার পেছনে সন্তানদের কোনো অবহেলা, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন অথবা প্ররোচনা ছিল কিনা, তা সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
পারিবারিক ও সামাজিক জাগরণ: শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নয়, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।
প্রবীণদের সুরক্ষা: প্রবীণ বাবা-মায়েদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে।
কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড স্পষ্ট ভাষায় বলতে চায়, এই সমাজকে আর কোনো মায়ের এমন করুণ পরিণতি দেখতে দেওয়া যাবে না। আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদের শুধু ক্যারিয়ারিস্ট নয়, বরং মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করি।
