![]()
গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে উড়োজাহাজের টিকিটের অগ্রিম টাকা নিয়ে টিকিট সরবরাহ না করা এবং প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ (এফইবিডি)-এর ছয় কর্মকর্তাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ সোমবার সিআইডির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধান শেষে গত ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন:
-
সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, ফ্লাইট এক্সপার্ট)
-
এম এ রশিদ শাহ সম্রাট (প্রেসিডেন্ট)
-
আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম (পরিচালক)
-
এ কে এম শাহদাত হোসেন (পরিচালক)
-
عبدال গণি মেহেদী (পরিচালক)
-
মো. সাকীব হোসেন (প্রধান অর্থ কর্মকর্তা/হেড অব ফাইন্যান্স)
-
মোতাহের হোসেন (স্বত্বাধিকারী, সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস)
যেভাবে চলত প্রতারণা ও অর্থ পাচার:
সিআইডির অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক উড়োজাহাজ টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে এটি ‘এফইবিডি’ নামে যৌথ মূলধনি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও উভয় নামেই ব্যাংকিং লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করত।
প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের (ডিসকাউন্ট) অফার দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করত। কিন্তু অর্থ নেওয়ার পর বহু ক্ষেত্রে তারা গ্রাহকদের টিকিট সরবরাহ করেনি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে সিআইডি।
সিইও’র দেশত্যাগ ও অর্থ আত্মসাৎ:
তদন্তে জানা গেছে, নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ না করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম গত ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশত্যাগ করেন। সিআইডি জানায়, সিইও দেশ ছাড়ার পরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও অর্থবিভাগের প্রধান বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন।
প্রাথমিক প্রমাণ অনুযায়ী, এফইবিডির ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ প্রথমে ফ্লাইট এক্সপার্টের হিসাবে এবং পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস ও মালিকানা গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও গ্রাহকদের সাথে বড় ধরণের প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিআইডি নিজেই এই মামলার তদন্তভার নিয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
