![]()
নিউজ প্রোভাইডার
টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। আর এই বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই বা বন্যা চলাকালীন সময়ে সবচেয়ে বড় যে স্বাস্থ্য ঝুঁকিটি দেখা দেয়, তা হলো পানিবাহিত রোগ। মূলত দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে অথবা রান্নাসহ দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে সেই পানি ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবী দ্বারা শরীরে যে সংক্রামক ব্যাধির সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে পানিবাহিত রোগ বলা হয়। বন্যার কর্দমাক্ত ও দূষিত পানির পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং অনিরাপদ খাবার থেকেও এসব রোগ দ্রুত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
বন্যার এই সময়ে সুস্থ থাকতে প্রধান পানিবাহিত রোগগুলোর লক্ষণ এবং তা থেকে বাঁচার উপায়গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. প্রধান পানিবাহিত রোগ ও এর উপসর্গসমূহ
আমাদের দেশে সবচেয়ে পরিচিত ও সচরাচর দেখা দেওয়া পানিবাহিত রোগগুলো এবং সেগুলোর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো:
-
ডায়রিয়া: ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হওয়া, তীব্র পেট ব্যথা এবং শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া।
-
কলেরা: হঠাৎ করেই তীব্র ও পাতলা ডায়রিয়া শুরু হওয়া, ঘন ঘন বমি, পেট ব্যথা এবং অল্প সময়ের মধ্যে শরীর থেকে পানি ও লবণ কমে গিয়ে মারাত্মক পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া।
-
আমাশয়: পেটে মোচড় দিয়ে তীব্র ব্যথা হওয়া এবং মলের সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা (আম) যাওয়া।
-
টাইফয়েড: তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী জ্বর (যা সহজে নামতে চায় না), প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও চরম শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়া।
-
জন্ডিস (হেপাটাইটিস এ বা ই): চোখ ও গায়ের ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রং অতিরিক্ত গাঢ় বা হলুদ হওয়া এবং ক্ষুধামন্দা বা খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি তৈরি হওয়া。
২. প্রাথমিক লক্ষণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিকার
বন্যার্ত বা সাধারণ মানুষের মধ্যে সাধারণত পেট খারাপ, ঘন ঘন বমি, উচ্চ মাত্রার জ্বর, কিংবা অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে কোনো ধরনের অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষ করে ডায়রিয়া বা কলেরার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করা সবচেয়ে জরুরি। এর জন্য আক্রান্ত রোগীকে বারবার খাওয়ার স্যালাইন (ORS) খাওয়াতে হবে এবং এর পাশাপাশি ডাবের পানি, ভাতের মাড় বা পর্যাপ্ত নিরাপদ তরল খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
৩. মহামারি আকারে রোগ প্রতিরোধ করার ৫টি উপায়
বন্যাদুর্গত এলাকায় কিংবা সাধারণ সময়েও কিছু সচেতনতা অবলম্বন করলে এই সব মারাত্মক রোগ থেকে সহজেই দূরে থাকা সম্ভব:
১. পানি ফুটিয়ে পান করা: যেকোনো উৎস থেকে সংগৃহীত পানি পানের আগে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ধরে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে।
২. পানি বিশুদ্ধিকরণ: বন্যা পরিস্থিতিতে যদি পানি ফোটানোর সুযোগ বা জ্বালানি না থাকে, তবে ফিটকিরি বা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট (ক্লোরিন ট্যাবলেট) ব্যবহার করে পানি পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত বা বিশুদ্ধ করে নিতে হবে।
৩. ভালোভাবে হাত ধোয়া: খাবার তৈরি, রান্না করা কিংবা খাবার খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর প্রতিবার সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে দুই হাত ধুতে হবে।
৪. খাবার ঢেকে রাখা: সর্বদা পরিষ্কার ও ঢাকা খাবার গ্রহণ করতে হবে। খোলা বা বাসি খাবার এবং বন্যার পানিতে ভিজে যাওয়া যেকোনো খাবার খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
৫. উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা: যত্রতত্র মলত্যাগ না করে সর্বদা স্বাস্থ্যসম্মত বা নির্দিষ্ট পায়খানা ব্যবহার করতে হবে এবং চারপাশের পরিবেশকে যথাসম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
